ছবি সংগ্রহীতঃ
মাত্র ৭০ দিনের একটি সংগঠন যে কাজটি করে দেখিয়েছে, তা অনেক পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষেও সহজ নয়। ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নাম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনের শক্তি দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তাদের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যও এসেছে।
গত ১৫ মে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বেকার যুবকদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করলে এর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অভিজিৎ দীপ সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ‘ম্যায় হু ককরোচ’ স্লোগানে সিজেপি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ৭ জুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে প্রথম সমাবেশের আয়োজন করে সিজেপি। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ আন্দোলন, গণসংযোগ এবং ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। বিশেষ করে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পরবর্তী দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়া আন্দোলনকে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করে। মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণাকে আন্দোলনের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা।
সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আন্দোলনের পরবর্তী দিকনির্দেশনা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আপাতত রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার চেয়ে তরুণদের অধিকার ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে জনমত গড়ে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সৌরভ দাসের মতে, দেশে শত শত রাজনৈতিক দল থাকলেও তরুণদের স্বপ্ন ও সংকট যথাযথভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থতা রয়েছে। সেই শূন্যস্থান পূরণে চাপ সৃষ্টিকারী জনমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে চায় সিজেপি।
আন্দোলনের প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপও সাফল্যের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সংগ্রামের ইঙ্গিত দিয়েছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই অর্জন কোনো সমাপ্তি নয়; বরং দীর্ঘ পথচলার সূচনা।
সমালোচকদের ভূমিকাকেও ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে তিনি মনে করেন, গঠনমূলক সমালোচনা আন্দোলনকে আরও পরিণত করেছে এবং লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছে।
সব মিলিয়ে, সিজেপির সাম্প্রতিক সাফল্য ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই আন্দোলন সাময়িক জনআবেগে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী সামাজিক-রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেবে,তার উত্তর সময়ই দেবে। আপাতত তাদের বার্তা একটাই,সবে শুরু, যেতে হবে আরও বহু দূর।’
সম্পর্কিত খবর
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে আজ শপথ নেবেন খলিলুর রহমান
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬জনপ্রিয় খবর
- 1 প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে প্রেমিকের আত্মহত্যা (জাতীয়)
- 2 শৈলকুপায় খবরের কাগজের ২য় বর্ষপূর্তি পালিত (জাতীয়)
- 3 কালীগঞ্জে হত্যা চেষ্টা মামলার মূল হোতা কিশোর গ্যাংয়ের অমিত আটক (জাতীয়)
- 4 পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে নীলফামারীতে জামায়াতের মানববন্ধন (জাতীয়)
- 5 ন্যায়ের পথে সাহসী যোদ্ধা — ময়মনসিংহের গর্ব ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম (জাতীয়)
- 6 প্রযুক্তির নতুন জোয়ার: বাংলাদেশে আসছে উন্নত ৫জি সেবা (রাজনীতি)